📕বই :- জোনাকিদের বাড়ি
✍🏻লেখক :- স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
🔖প্রকাশক :- আনন্দ
💸মুদ্রিত মূল্য :-১০০০ টাকা
⭐রেটিং :- ৫/৫
![]() |
“আকাশজুড়ে জোনাকিদের বাড়ি
বুকের নীচে পাগলা রাজার ঘোড়া
তখন থেকে সবার সঙ্গে আড়ি
তখন থেকে আমার শহর পোড়া !
ধ্বংস ঘেঁটে তোমায় পেলাম মোহর
তোমার আলোয় বাঁচল আমার প্রাণী
কক্ষ থেকে ছিটকে যেত গ্রহ…
উল্কা তোমার কাচের ফুলদানি !
কেমন ছিল সেসব ধুলোখেলা !
কেমন ছিল সাগরপারের রানি !
এই জীবনের নরম বিকেলবেলায়…
আমরা দু’জন, কেবল দু’জন জানি
আমরা দু’জন, মাত্র দু’জন জানি।”
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর গল্পের একটি বৈশিষ্ট্যই হল দুই বা ততোধিক জেনারেশন এর গল্প। 'জোনাকিদের বাড়ি 'ও তার ব্যতিক্রম নয়।
📚সংক্ষিপ্ত বিবরণ :-
এই উপন্যাসে বর্ণনা রয়েছে সোনাঝুরি নামের একটি জায়গার যেখানে অবস্থিত জোনাকিদের বাড়ি। পেখম ও কাজুর অপরিণত ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকে এই 'জোনাকিদের বাড়ি '।কাজুর আসল নাম বেঞ্জামিন কূজন সরকার। পেখম বা দীপমালা আজীবন তাকে ভুলতে পারে না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও কাজুর কথা বলতে গেলে তার মনের ভেতরে কিশোরীবেলার মতোই স্নিগ্ধতা বয়ে চলে। পেখম কাজুকে হারিয়ে ফেললেও তার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। তাদের স্বপ্নের জোনাকিদের বাড়িকে সে বেদখল হতে দেয় না।
এই জোনাকিদের বাড়ি কিনতে চায় কলকাতার কিছু কোম্পানি। কিন্তু দীপমালা যথা সম্ভব রক্ষা করে চলে সেই বাড়ি। শেষপর্যন্ত কীভাবে দীপমালা রক্ষা করতে পেরেছিল তার কাজুদার শেষ স্মৃতি, তা জানতে হলে আপনাদের পড়তেই হবে এই অসাধারণ সুন্দর উপন্যাস।
পেখম-কাজুর মতোই এযুগের নিশান-রাধিয়া, পুশকিন -নোঈ, রূপিন -আইকা, মাহির -পলি এদের সম্পর্কের সমীকরণও খুব সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন লেখক।নিশানের মতো সাহসী চরিত্রের ছেলেরা আদর্শের জন্য গুলি খেয়ে নিজের জীবন দিতে ভয় পায় না, রাধিয়া তার সৌখিন জীবন থেকে বেড়িয়ে রুক্ষ বাস্তবকে চিনতে শেখে, এই যুদ্ধে নিশানকে পাশে পায় সে। পুশকিন তার অতীত ভুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, নোঈ অপমানের যোগ্য জবাব দিতে শেখে। আইকা বুঝতে পারে একা থাকাই তার নিয়তি আর এতেই ভালো থাকবে সে। রূপিনের প্রফেশনালিসম চোখে পড়ার মত। নিঃস্ব মাহিরের জীবনে নতুন দিনের আলোর মতো পলি এসে তাকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করে। এছাড়াও সারা উপন্যাসে আরও নানা চরিত্রের জীবনের ওঠাপড়া লক্ষ্য করা যায়।
📝পাঠ্য প্রতিক্রিয়া:-
সারা উপন্যাস জুড়ে রয়েছে ভালোবাসা, বেদনা, প্রতিশোধ, দারিদ্র্য এর সঙ্গে যুদ্ধ, বিভিন্ন ঘটনার সুন্দর বর্ণনা যা পড়ে আপনি একটা ঘোরের মধ্যে অবশ্যই থাকবেন। তবে উপন্যাসের শেষটা মিশ্র অনুভূতির মাধ্যমে শেষ হবে। কেউ ভালো থাকার চাবিকাঠি খুঁজে পায় তো কেউ দুঃখকেই সম্বল করে বাঁচার পথ বেছে নেয়। এ যেন আমাদেরই গল্প। পড়ার পর মনে হচ্ছে এত তাড়াতাড়ি শেষ না হলেই ভালো হত।সর্বোপরি নিখাদ প্রেম উপন্যাসটির মূল রসদ। বেশ একটা মন খারাপ, মন ভালো করা আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইল।



bhalo boi... bhao golpo
ReplyDelete