✍🏻লেখক :- কাজল ভট্টাচার্য
🔖প্রকাশক :- শব্দ
💸মুদ্রিত মূল্য :- ৩৭৫ টাকা
📌রেটিং :- ৪/৫
📚সংক্ষিপ্ত বিবরণ:- তুঙ্গভদ্রা দাসগুপ্ত, ডাকনামে ঝিলিক, এক মধ্যবিত্ত বাঙালি মেয়ে, যিনি আইআইটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে আমেরিকায় যান। সেখানে অজান্তেই তিনি জড়িয়ে পড়েন সিআইএর এক গোপন গবেষণায়। কিন্তু সেই কাজের উদ্দেশ্য যখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়—মানুষের মস্তিষ্ক ও চিন্তাকে গোপনে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা—তখন ঝিলিক দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। ফলস্বরূপ চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার জীবনে নিয়ে আসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ ও এক দুঃসাহসিক সংগ্রাম।
বিদেশে এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে, মাথায় গুরুতর চোট নিয়ে, কয়েক মাস কাটাতে হয় মিসেস ইভান্সের বাড়িতে। সুস্থ হয়ে ব্যারাকপুরের বাড়ি ফিরলেও, অপারেশনের পর থেকেই তার জীবন আমূল পাল্টে যায়। শরীর ও মনের ওপর নানান অদ্ভুত প্রভাব দেখা দিতে থাকে। এই লড়াইয়ে তার পাশে থাকে প্রেমিক অভিষেক এবং তার পরিবার।
অভিষেক ইন্টারনেটের খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারে যে ঝিলিকের মাথায় বসানো হয়েছে এক বিশেষ মাইক্রোচিপ, যার মাধ্যমে আমেরিকা থেকে বসে তার চিন্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ঘটনাগুলি ক্রমশ অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে—সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ মধুরিমা মিত্রর পরামর্শ, "র"–এর প্রাক্তন কর্মী কৃষ্ণমূর্তির সঙ্গে যোগাযোগ, এবং একের পর এক রহস্যময় হামলা সম্পূর্ণ বিষয়কে আরও জট পাকিয়ে তোলে।
পাশাপাশি গল্প এগোতে থাকে সমান্তরাল পথে—একদিকে আমেরিকার সিআইএ, অন্যদিকে ইসরায়েলের মোসাদ, উভয়ের লক্ষ্য একই—মানুষের মস্তিষ্কের ওপর দখল নেওয়া। ঝিলিক ও তার সহযাত্রী ফ্রিডা, যিনি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মোসাদের সঙ্গে যুক্ত, একসময় তৈরি করে ‘সাইলেন্ট সাউন্ড স্প্রেড স্পেকট্রাম’–এর ওপর ভিত্তি করে এক বিপ্লবী মডেল। ঝিলিক সাহায্য করে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠানো সম্ভব সেই গবেষণায়, যা তাকে আমেরিকার কাছে অমূল্য সম্পদে পরিণত করে।
কিন্তু একসময় তার মাথার চিপ অকেজো হয়ে গেলে সমস্যার রূপ আরও জটিল হয়। সমাধানের আশায় খোঁজ মেলে সিঙ্গাপুরের এক নিউরো সার্জনের, যিনি সম্ভবত চিপ শনাক্ত করে অপসারণ করতে পারবেন। সিঙ্গাপুরে গিয়ে ঘটে একের পর এক শিহরণ জাগানো ঘটনা। দেশে ফেরার পরও ঝিলিক জড়িয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু রুহা ও তার সঙ্গী মেহেরের জীবনে। গল্পের স্রোত একসঙ্গে বহু পথে এগোতে থাকে।
🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া :- অসাধারণ Sci-fi Spy thriller একটি বই পড়লাম। বইটি পড়তে গিয়ে বেশ কিছু জায়গা পড়ে রীতিমতো চমকে উঠেছি। তবে বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে নন ফিকশন এর ছোঁয়া রয়েছে এবং বহু অজানা প্রযুক্তির সম্পর্কে গুছিয়ে তথ্য দেওয়া যা পড়তে গিয়ে অনেক অজানা তথ্য সামনে এসেছে। শুধু ‘ডার্ক ওয়েব’ নয়, ‘টর’ (দ্য অনিয়ন রাউটার), সিনথেটিক টেলিপ্যাথি, ন্যানোবটের মতো চমকপ্রদ তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছি, বিস্মিত এবং অবাক হয়েছি। প্রযুক্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, মানুষের জীবনে তার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে এবং কীভাবে এই প্রযুক্তির অন্ধকার দিককে কাজে লাগিয়ে ক্ষতি সাধন করা যেতে পারে সেই নিয়েই রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা হল এই বই পড়ে। তবে প্রথম ৫৫ পাতা ঝড়ের গতিতে এগোলেও মাঝে কিছুটা থমকে গেছিলাম, তবে শেষটা পড়ে আবার সেই অনুভূতি ফিরে এলো। ঝিলিক, তার পরিবার, বন্ধু ও প্রেমিক—সবাই কিভাবে এই জটিল খেলায় জড়িয়ে পড়ে, আর তার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা জানতে হলে বইটি অবশ্যই পড়তেই হবে।
⭕যে যে খারাপ দিক চোখে পড়ল--
১. বেশ কিছু জায়গায় বানান ভুল রয়েছে
২. কোথাও রথীন্দ্রবাবু, কোথাও রবীন্দ্রবাবু, কোথাও রাতুল, কোথাও রাহুল।
৩. টাইপিং মিস্টেক রয়েছে।
বাদ বাকি পুরো বইটি পড়ে অবশ্যই মন ভরবে এবং পেজ কোয়ালিটি আর প্রচ্ছদ ভালো লাগার জন্য যথেষ্ট।