✍🏻লেখক :- শানারেই দেবী শানু
🔖প্রকাশক :- অভিযান
💸মুদ্রিত মূল্য :- ২০০ টাকা
📌রেটিং :- ৩.৫/৫
📚সংক্ষিপ্ত বিবরণ :- স্ত্রী অদ্রি সুইসাইড করেছে। তার শোকে পাগল হয়ে গিয়েছে স্বামী পাভেল, অবশেষে মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় সে। এক এক করে বুঝতে থাকে সে যে তার স্ত্রীর পরকীয়া ছিল, এতো সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও তাকে ভালোবেসে আগলে রাখতে পারেনি পাভেল। বরং অতিরিক্ত ভালোবাসা, চোখে হারানো এসব থেকে কখন যে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ, অবিশ্বাস, হিংসার জন্ম হয়েছে মনে পাভেল বুঝতে পারেনা। একদিন সে তার স্ত্রীর আলমারি থেকে শাড়ির ভেতরে একটা চিরকুট পায় যেখানে লেখা "আমার একটা তুই চাই", মাথার ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে এই ভেবে যে সে কীভাবে বিয়ে করেও অন্য কারোর সাথে সম্পর্কে থাকতে পারে? এরপর তাকে বন্দি করে রাখা হয় ঘরে। একসময় স্ত্রী আত্মহত্যা করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে।
পাভেলের ছোটবেলার বন্ধু অর্ক পাভেলের স্ত্রীর মৃত্যুর পর আগলে রাখতে চায় বন্ধুকে। কিন্তু একসময় অর্কও মারা যায়। এক এক করে কালো ছায়া নেমে আসতে থাকে পাভেলের জীবনে। এই সবটাই কি নিছক আত্মহত্যাই নাকি অন্য কিছু। আর সত্যিই কি কোনো পরকীয়া ছিল অদ্রির সেটাও বইয়ের শেষে এসে জানা যাবে সত্যিটা।
🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া :- একদমই ছোট্ট একটা বই, আর প্রথমবার বাংলাদেশী লেখিকার লেখা পড়া। বইতে তিনি ভীষণই সাবলীল শব্দচয়ন রেখেছেন এবং অনুভূতির প্রকাশও করেছেন সহজভাবেই। পড়তে পড়তে খুব একটা বাঙাল ভাষা পাওয়া যায়না। বরং লেখার মধ্যে।আবেনের ছাপ স্পষ্ট। অদ্রি চরিত্রটাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং সম্পূর্ণ গল্পটার মূল যে বিষয় "আমার একটা তুই চাই" অর্থাৎ এমন একজন যে বন্ধুর মতন ভালোবেসে একটা মানুষকে সঠিকভাবে বুঝে সারাজীবন আগলে রাখতে জানে এমন একজনকে সে চায় যাকে সে নিজেও ভালোবাসতে চেয়েছে নিজের করে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর পাভেলের ভেঙে পড়া কিংবা তার যে মানসিক সমস্যা দেখা যায় তাকেও সুন্দরভাবেই তুলে ধরেছেন। আর গল্পের শেষটায় যে ঘটনার বর্ণনা রয়েছে তা পড়তে পড়তেই বুঝতে পারা যায়। তাই বইটা পড়তে গিয়ে বেশ কিছু জায়গা আগে থেকেই আন্দাজ করে নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম। তবে গল্পের প্লট ইন্টারেষ্টিং লাগলেও গল্পের বুনোন আর গল্প যেভাবে এগিয়েছে সেটাকে আরও মুখরোচক বানানো যেতে পারতো। সব মিলিয়ে একবার পড়ার মতন এই বই কিন্তু ছোটোর মধ্যে ভালো লাগবে।