Saturday, July 19, 2025

একদিনের ঈশ্বর

📕বই :- একদিনের ঈশ্বর
✍🏻লেখক :- সায়ন্তনী পূততুন্ড
🔖প্রকাশক :- আনন্দ 
💸মুদ্রিত মূল্য :- ২০০টাকা 
📄পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ১৯৮
📌রেটিং :- ৫/৫
গল্পের বিষয়বস্তু :- আগামীদিনের কলকাতা শহরের পরিণতি নিজের হাতে বদলে ফেলেন বিজ্ঞানী রবিনসন। যিনি ভবিষ্যত দেখার জন্য আবিষ্কার করেছেন "ফিউচারোস্কোপ" যন্ত্র যেখানে মানুষের ডিএনএ এই সাহায্যে জানা সম্ভব তার ভবিষ্যত। এমন আবিষ্কারের পর রবিনসন হয়ে ওঠেন আত্মপ্রত্যয়ীএবং হাইটেক কলকাতা শহরের অধিশ্বর হবার স্বপ্ন হয়ে ওঠে তাঁর ধ্যান জ্ঞান। আর তিনি সফলও হন। হয়ে ওঠেন ২০৪৬ সালের সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্ব শক্তিমান অধিষ্ঠাতা। কিন্তু তাঁরই আবিষ্কৃত যন্ত্রে নিজের ভবিষ্যত দেখতে গিয়ে জানতে পারেন যে তিনিই খুন হবেন কারোর হাতে। কিন্তু সে কে? যিনি মানুষের ভবিষ্যৎ গণনা করে বদলে দিতে পারেন তিনি কি নিজের মৃত্যু আটকাতে পারবেন নাকি সত্যিই মারা যাবেন কোনো নিকটতম মানুষের হাতে। সেটি জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।

পাঠ প্রতিক্রিয়া :- এমন একটি সাইন্স ফিকশন বই পড়ার পর নিজেকে বাস্তব দুনিয়ায় স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময়ে লাগে। এই বইতে একের পর এক ঘটনা যা বর্তমান সমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে মেলে তা চোখের সামনে তুলে ধরেছেন লেখিকা। তিনি যেমন উন্নত কলকাতা শহরের বুকে রোবটবাহিনীর নিরাপত্তা, কিংবা দূষণ মুক্ত শহর দেখিয়েছেন ঠিক তারই পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেছেন দরিদ্র নিপিড়িত মানুষের দুরাবস্থা। যেখানে কলকাতা শহরের উন্নতিসাধন ঘটলেও গরিব মানুষদের ভবিষ্যতের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বরং তারাই তাদের নিজ ভূমিতে শোষিত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। ক্ষমতার অপব্যবহারে বিজ্ঞানী রবিনসন যেমন হিতাহিত জ্ঞান ভুলে একের পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন ঠিক অপরদিকে নিরস্ত্র দরিদ্র মানুষেরা একজোট হয়ে বিজ্ঞানের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছে অভুক্ত পেটে। এই বইতে এমন কিছু ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যা চোখে জল আনতে বাধ্য। এক কথায় বিজ্ঞানের প্রসারতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষ থেকে অমানবিক পিশাচে পরিণত হওয়া বিজ্ঞানীর ভবিষ্যত এবং নিপিড়িত মানুষের মনের জোরে শেষ অবধি লড়াই করে যাওয়া। এই বইতে সব বর্তমান। তবে কিভাবে বিজ্ঞানী রবিনসন একদিনের জন্য ঈশ্বর হয়ে উঠবেন সেই ঘটনার বর্ণনাও বেশ নজরকাড়া।  
সব মিলিয়ে বহুদিন পর এতো সুন্দর একটা বই পড়া সার্থক।

শেষ মৃত পাখি

📕বই :- শেষ মৃত পাখি 
✍🏻লেখক :- শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
🔖প্রকাশক :- সুপ্রকাশ 
💸মুদ্রিত মূল্য :- ৫২০টাকা 
📄পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ৪০৩
📌রেটিং :- ৫/৫
🔹কাহিনী বর্ণনা :- তরুণ সাহিত্যিক অমিতাভ মিত্র খুন হয়েছেন তাঁরই নিকট কারোর হাতে। অনুমান করা যাচ্ছে যে তাঁর বন্ধু অরুন চৌধুরী করেছেন খুন কিন্তু যুতসই প্রমাণ মেলেনি পুলিশের হাতে। 
পঁয়তাল্লিশ বছর পর সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক তনয়া এসেছেন সেই অমীমাংসিত হত্যাকাহিনী নিয়ে ম্যাগাজিনে লিখতে। কিন্তু এতবছরের পুরোনো কেস থেকে রহস্য উদ্ঘাটন হবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন যেমন থেকেই যায় তেমনই এতবছর পর যে কেস ধামাচাপা পড়ে গেছে তার কিনারা কিভাবে তনয়া খুঁজে বের করবে সেই নিয়েও প্রশ্ন মনের মধ্যে দাগ কাটে। আর এই গল্পের পেছনে যাদের অবদান বা অপরাধ রয়েছে তারাও কী সামনে আস্তে পারবে? চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তনয়া।
দার্জিলিং এ পা রাখার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে, যত সময় এগোয় তনয়া একের পর এক জট খুলতে থাকে রহস্যের। অরুন চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে সে পায় অরুণাভ মিত্রের লেখা চিঠি এবং একটি অসমাপ্ত রহস্য কাহিনী যা মৃত্যুর আগে অরুণাভ লিখে গেছেন বলে চিহ্নিত। কিন্তু সেই গল্পেই কী লুকিয়ে আসল সত্য? নাকি সবার আড়ালে লুকিয়ে সে সবটা নিয়ন্ত্রণ করছে?

🔸পাঠ প্রতিক্রিয়া :- উপন্যাসটা যখন পড়ছিলাম পরতে পরতে রহস্যের স্বাদ খিদেটাকে বাড়িয়ে দিচ্ছিল। যত সমাধানের কাছে পৌঁছচ্ছি দোষী তত ফসকে যাচ্ছে হাত থেকে। যাকে কালপ্রিট মনে হচ্ছে সে আসলে নিরপরাধী অথচ অপরাধী আসলেই যে কে তা ধরা মুশকিল। এই বই আপনাকে রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু অবধি নিয়ে যাবে যেখনে এমনই জট পেকে আছে যে সে জট ছাড়ানো মুশকিল। আর যখনই মনে হবে ক্লু আসছে শেষটায় দেখবেন আসল অপরাধী অন্য কেউ। সবমিলিয়ে এই বই যতক্ষণ না পড়ে শেষ করছেন মাথা হালকা হবার উপায় নেই। আর শেষটায় হবে একের পর এক বিস্ফোরণ। যার ধাক্কা সামলে উঠতে কিছু সময় তো লেগেই যাবে। কারণ এই বইতে ভরপুর রহস্য বর্তমান। 

Wednesday, July 16, 2025

পদ্ম পুকুর

📕বই :- পদ্ম পুকুর
✍🏻লেখক :- সুমন দে
🔖প্রকাশক :- কলকাতা প্রেস বুকস
💸মুদ্রিত মূল্য :- ৩৪৯ টাকা
📌রেটিং :- ৩.৫/৫
📗সংক্ষিপ্ত বিবরণ :- কলকাতা থেকে বহু দূরে পদ্ম পুকুরকে ঘিরে থাকা এক গ্রাম, "পদ্ম পুকুর"। সবুজে ঘেরা সে গ্রামে সহজ সরল মানুষের বাস। গ্রামের পরিবেশ বড়োই মনোরম। বইটির শুরুতেই দেখা যায় রামুর দোকানে সকাল সকাল গোল টেবিল বৈঠক বসেছে সমীর সেন, শ্যাম ঘোষাল, আমিরুল ইসলাম সহ গ্রামের কয়েকজনের এবং সেখানেই গ্রামের তিন বন্ধু কৃষ্ণ বিশ্বাস, নয়ন ঘোষ এবং গণেশ পাল এসে উপস্থিত সেই আড্ডায়। এই তিন বন্ধুর জীবনের নানা দিক ফুটে ওঠে ক্রমশ এই গল্পে। বাবা মা হারা কৃষ্ণ এই গ্রামের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র যে কলকাতায় যাবার স্বপ্ন দেখে। নয়ন আর গনো ডানপিটে, মিশুকে ছেলে, একসাথে এই গ্রামেই বড়ো হয়ে ওঠা। কিন্তু এই বন্ধুত্বই যে কখন একসময় গিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করবে তা ক্রমশ গল্পের সাথে এগোতে থাকবে। গ্রামের অন্যান্য চরিত্রগুলোও ক্রমশ মিশে যেতে থাকে এই তিনজনের জীবনে। রঞ্জন দে এর সদ্যজাত ছেলে নীলকে নিয়ে গ্রামে আনন্দ উৎসব লাগে, পাশাপাশি সমীর সেন এর জীবনেও ঘটে তার কলকাতাবাসী গুণধর ছেলের কীর্তি নিয়ে ঘটনা। পাশাপাশি নন্দিনী এবং মালতির সাথেও পরিচয় ঘটে পাঠকের যারা কৃষ্ণ এবং নয়নের প্রেমিকা। নয়নের সাথে মালতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও কৃষ্ণ নন্দিনীকে বিয়ে করতে পারে কিনা জানা যায় বই এর শেষের দিকে। এরই মধ্যে গনোকে কলকাতায় পাকাপাকি ভাবে চলে আসতে হয় কাজের সূত্রে এবং অন্য দিকে নয়নের মায়ের ধরা পড়ে লিভার ক্যান্সার, কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসতে হয় তাদের। সেখানে কৃষ্ণ আর নয়নের সাথে দেখা হয় গনোর। কেন গনো কোনোদিনও গ্রামে ফিরে যেতে পারবেনা সেই কারণও জানায়। যত গল্প এগোতে থাকে এক এক করে চোখের সামনে ধরা পড়তে থাকে বন্ধুত্বে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রেমিকার সাথে চরম ভুল বোঝাবুঝি, বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে নয়নের বিবেকের কাছে হেরে গিয়ে শুধু মায়ের জন্য সর্বস্ব হারিয়ে ফেলা এবং কৃষ্ণের অকাল পরিণতি। ঠিক কী হয়েছিল শেষটায় জানতে হলে পড়তে হবে এই বই।

🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া :- বইটা পড়তে গিয়ে চোখের সামনে গ্রাম বাংলার দৃশ্য ফুটে উঠছিল বারবার যেখানে সহজ সরল মানুষের ভিড়ে সুস্থ প্রকৃতির স্পর্শ যেন মন ছুঁয়ে যায়। গ্রামের প্রতিটা বর্ণনা সুন্দর, প্রতিটা চরিত্রের মাঝে লুকিয়ে থাকা এক একটা ঘটনা কীভাবে পুরো গ্রামের মানুষদের সাথে জড়িয়ে আছে বোঝা যায়। তিন বন্ধুর বন্ধুত্ব নজরকাড়া, কৃষ্ণ আর নন্দিনীর প্রেম পর্বও ভীষণ খুঁটিয়ে আর সুন্দর করে বর্ণনা রয়েছে যা পড়ে মুগ্ধ হয় মন। বইতে বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট কবিতা ও ছড়া দেখতে পাওয়া যায়। বেশ সুন্দর করে সাজানো প্রতিটা পরিস্থিতি সাপেক্ষে কবিতাগুলি। প্রথম ষাট-সত্তর পাতার পর দ্রুত শেষ হবে এই বই। বারবার মানুষের সুখ দুঃখের সাথে "পদ্ম পুকুর"কে যেভাবে লেখক তুলে ধরেছেন তাতে বইটির নামকরণ সার্থক। এবং শেষটা পড়ে মন খারাপ হতে বাধ্য, ঠিক কী রয়েছে তা জানার জন্য অবশ্যই এই বই পড়তে হবে।

⭕ যা যা ভালো লাগেনি :-
১. সম্পূর্ণ বইতে অনেক বানান ভুল বা প্রিন্টিং মিস্টেক রয়েছে।
২. কিছু কিছু জায়গায় লেখার বুনন আরও ভালো হতে পারত।
৩. শুরুর দিকে একটু ঘেঁটে যাচ্ছিল পড়তে গিয়ে।
৪. তিন বন্ধু বাদে বাকি চরিত্র গুলো আরও একটু ব্যাখ্যা থাকলে ভালো হত।

তবে লেখকের প্রথম বই হিসেবে যথেষ্ট প্রশংসনীয় এই বই। বিশেষত কিছু কিছু জায়গার লেখনী প্রচন্ড সুন্দর এবং সহজ সরল। অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইল।

Tuesday, July 8, 2025

২৩ ঘন্টা ৬০ মিনিট

📕বই :- তেইশ ঘন্টা ষাট মিনিট
✍🏻লেখক :- অনীশ দেব
🔖প্রকাশক :- Patra Bharati 
💸মুদ্রিত মূল্য :- ৫৯৯ টাকা
📌রেটিং :- ৫/৫
[বি. দ্র. - বিগত একটা গোটা মাসেরও বেশি সময় নিলাম কোনো বইয়ের রিভিউ লেখার জন্য। একটা বইকে যথার্থ ভাবে যদি বর্ণনা করতে হয় তাহলে অনেকটা বেশি সেই বইকে নিয়ে ভাবতে বা অনুভব করতে হয় বলে আমার ধারণা। তবে কিছু বই থাকে যার যথাযত মূল্যায়ন সম্ভব নয়।]

📗সংক্ষিপ্ত বিবরণ:- অভাব অনটনে, অর্থাভাবে দিন কাটছিলো জিশানের। বাচ্চার দুধ কিনতে বেড়িয়ে সে দেখল প্রতিযোগিতা হচ্ছে যেখানে জিতলে থাকবে নগদ বেশ কিছু টাকার পুরস্কার। বন্ধু মালিকের জোরাজুরিতে কুস্তি লড়তে গিয়ে মালিককে হারায় কার্তিক। বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে জিশান প্রথমবার লড়ে রক্তের স্বাদ পায়। এরপর থেকে শুরু হয় আসল গল্প।
      পুরোনো কলকাতা শহরের ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে নিউ সিটি, যেখানকার উন্নত প্রযুক্তি এবং শাসন ব্যবস্থা পুরোনো জীর্ণ কলকাতার রূপকে পেছনে ফেলে গেছে। সেখানেই নাম করা "সুপার গেম কর্পোরেশন" তৈরী হয়েছে যেখানে মারণ খেলার বিনিময়ে এক শ্রেণী যেমন আমোদ আল্হাদ ভোগ করে তেমনই প্রতিযোগিরা জিতলে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত পুরস্কার পায়। তবে "কিল গেম" সেখানে ভয়ঙ্কর। জিশানকে ব্ল্যাকমেইল করে কিল গেমে ধরে আনেন শ্রীধর পাট্টা। তারপর শুরু হয় একের পর এক মারণ খেলা। কখনো ভারী লোহার বল ঝুলিয়ে, কখনো বিষাক্ত সাপ ভর্তি ট্যাঙ্কের ভেতরে হেঁটে কখনো বা হিংস্র জন্তুর মুখোমুখি হয়ে শুরু হয় টিকে থাকার লড়াই। এবং নিউ সিটিতে যেখানে সমস্ত প্রতিযোগীকে একসাথে রাখা হয়েছে সেই বিল্ডিং এর প্রতিটি কোণায় থাকা সিসিটিভি সর্বক্ষণ নজর রেখে চলছে, কোনো ভুল করলেই প্রতিযোগীদের পেতে হবে অকল্পনীয় শাস্তি। উন্নত প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিষ্ঠুর মানসিকতা আর ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত হেরে না গিয়ে জিশানকে লড়াই করে যেতে হচ্ছে। এ লড়াই টিকে থাকার লড়াই, এ লড়াই মানসিক শক্তিকে শারীরিক শক্তির উর্দ্ধে রেখে টিকে থাকার লড়াই। একের পর এক গেমে অংশ নিয়ে জিশান যখন পাকা খেলোয়াড় তকমা পেয়েছে ঠিক তারপরেই আসে বহুল কাঙ্খিত ২৪ঘন্টার সেই মারণ খেলা যার নাম "কিল গেম"। জিশান সমস্ত পর্ব পূরণ করে কি কিল গেমে জিততে পারবে? জানতে হলে পড়তে হবে।

🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া:- বইটার প্রথম পঞ্চাশ পাতায় এসে "Squid game" কিংবা "Alice in the border land" সিরিজের কথা মনে পড়ে যায়। তবে এই ধরণের গল্প দেখার চেয়ে পড়ে যতটা অভিভূত এবং বিস্মিত হয়েছি তা অসম্ভব বলে বোঝানো। আজ থেকে প্রায় তেইশ চব্বিশ বছর আগে লেখকের এমন এক সৃষ্টি পড়ে মুহুর্মুহু বিস্মিত হওয়া ছাড়া কিছু উপলব্ধ হয়নি। এক একটা ঘটনা, তার পরিপ্রেক্ষিতে যে জটিল বুদ্ধি খাটিয়ে শাস্তি দেওয়া এবং অমন মারমুখী প্রতিযোগিতায় জিশানের অদম্য মনোবলের সাথে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে একটা একটা করে লেভেল পাড় করা, প্রযুক্তির অসামান্য অবদানকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করে তোলা এবং বিজ্ঞানের আশীর্বাদে আশু ভবিষ্যতের যে যে দিক লেখক উল্লেখ করে গিয়েছেন তা পড়ার পর একই সাথে ভালোলাগা এবং ভয়, এই পরস্পর বিরোধী দুই অনুভূতি কাজ করে অদ্ভুত এক অনুভূতির জন্ম দিয়ে গেছে। কল্প বিজ্ঞানের এই ধরনের গল্প মন ও মস্তিস্ককে যেন আরও সজাগ ও চতুর করে তোলে। পাশাপাশি এই ধরণের বই স্নায়ু টানটান করার সাথে সারা শরীরে শিহরণ জাগায় যে শেষ পর্যন্ত ঠিক কী হল জানার জন্য। ঠিক তার পাশাপাশি শ্রীধর পাট্টার মতন চরিত্রের খারাপ ভালো দিক ফুটিয়ে তোলা।একজন বাপ্ মা মরা ছেলে কীভাবে দাপুটে অহংকারী নিষ্ঠুর নির্দয় পিশাচে পরিণত হয় এবং কীভাবে বুদ্ধি ও শক্তি খাটিয়ে নিউ সিটির সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠে তা খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন লেখক। লেখক সব শেষে এটাই বুঝিয়ে গেছেন যে মনের থেকে শক্তিধর আর কিছু হয়না, অধ্যবসায়, বিস্বাস আর নিজের প্রতি আস্থা মানুষকে কঠিন থেকে কঠিন মুহূর্তকে পাড় করিয়ে দিতে পারে। আর যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা করে এগিয়ে চলা এবং তার সাথে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে তুখোড় থেকে তুখোড় শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার কথা জানিয়ে যায়। এ বই এর প্রতিটি ছত্রে যে সাসপেন্স আর দম বন্ধ করা পরিস্থিতি লুকিয়ে তা অবশ্যই বলা বাহুল্য।
এই বই সত্যিই সম্পদ। আমার বিনীত অনুরোধ বইটি একবার পড়ে দেখার। যদিও বর্তমানে এই গল্পটি অডিও স্টোরি রূপে প্রকাশ পেয়েছে তবুও কিছু গল্প বইতেই বেশি উপভোগ্য বলে আমার মনে হয়। ২৩ ঘন্টা ৬০ মিনিট এই বছরের সেরা বই এখনও পর্যন্ত আমার কাছে।


লকড রুম রহস্য সংকলন

📙বই :- লকড রুম রহস্য সংকলন  ✒️লেখক :- অমৃতেন্দু মুখোপাধ্যায়  🔖প্রকাশনী :- অনুরাগ প্রকাশনী  💰মুদ্রিত মূল্য :- ২৭৫ টাকা  ৫টি স্...