✍🏻লেখক :- অনীশ দেব
🔖প্রকাশক :- Patra Bharati
💸মুদ্রিত মূল্য :- ৫৯৯ টাকা
📌রেটিং :- ৫/৫
[বি. দ্র. - বিগত একটা গোটা মাসেরও বেশি সময় নিলাম কোনো বইয়ের রিভিউ লেখার জন্য। একটা বইকে যথার্থ ভাবে যদি বর্ণনা করতে হয় তাহলে অনেকটা বেশি সেই বইকে নিয়ে ভাবতে বা অনুভব করতে হয় বলে আমার ধারণা। তবে কিছু বই থাকে যার যথাযত মূল্যায়ন সম্ভব নয়।]
📗সংক্ষিপ্ত বিবরণ:- অভাব অনটনে, অর্থাভাবে দিন কাটছিলো জিশানের। বাচ্চার দুধ কিনতে বেড়িয়ে সে দেখল প্রতিযোগিতা হচ্ছে যেখানে জিতলে থাকবে নগদ বেশ কিছু টাকার পুরস্কার। বন্ধু মালিকের জোরাজুরিতে কুস্তি লড়তে গিয়ে মালিককে হারায় কার্তিক। বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে জিশান প্রথমবার লড়ে রক্তের স্বাদ পায়। এরপর থেকে শুরু হয় আসল গল্প।
পুরোনো কলকাতা শহরের ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে নিউ সিটি, যেখানকার উন্নত প্রযুক্তি এবং শাসন ব্যবস্থা পুরোনো জীর্ণ কলকাতার রূপকে পেছনে ফেলে গেছে। সেখানেই নাম করা "সুপার গেম কর্পোরেশন" তৈরী হয়েছে যেখানে মারণ খেলার বিনিময়ে এক শ্রেণী যেমন আমোদ আল্হাদ ভোগ করে তেমনই প্রতিযোগিরা জিতলে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত পুরস্কার পায়। তবে "কিল গেম" সেখানে ভয়ঙ্কর। জিশানকে ব্ল্যাকমেইল করে কিল গেমে ধরে আনেন শ্রীধর পাট্টা। তারপর শুরু হয় একের পর এক মারণ খেলা। কখনো ভারী লোহার বল ঝুলিয়ে, কখনো বিষাক্ত সাপ ভর্তি ট্যাঙ্কের ভেতরে হেঁটে কখনো বা হিংস্র জন্তুর মুখোমুখি হয়ে শুরু হয় টিকে থাকার লড়াই। এবং নিউ সিটিতে যেখানে সমস্ত প্রতিযোগীকে একসাথে রাখা হয়েছে সেই বিল্ডিং এর প্রতিটি কোণায় থাকা সিসিটিভি সর্বক্ষণ নজর রেখে চলছে, কোনো ভুল করলেই প্রতিযোগীদের পেতে হবে অকল্পনীয় শাস্তি। উন্নত প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিষ্ঠুর মানসিকতা আর ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত হেরে না গিয়ে জিশানকে লড়াই করে যেতে হচ্ছে। এ লড়াই টিকে থাকার লড়াই, এ লড়াই মানসিক শক্তিকে শারীরিক শক্তির উর্দ্ধে রেখে টিকে থাকার লড়াই। একের পর এক গেমে অংশ নিয়ে জিশান যখন পাকা খেলোয়াড় তকমা পেয়েছে ঠিক তারপরেই আসে বহুল কাঙ্খিত ২৪ঘন্টার সেই মারণ খেলা যার নাম "কিল গেম"। জিশান সমস্ত পর্ব পূরণ করে কি কিল গেমে জিততে পারবে? জানতে হলে পড়তে হবে।
🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া:- বইটার প্রথম পঞ্চাশ পাতায় এসে "Squid game" কিংবা "Alice in the border land" সিরিজের কথা মনে পড়ে যায়। তবে এই ধরণের গল্প দেখার চেয়ে পড়ে যতটা অভিভূত এবং বিস্মিত হয়েছি তা অসম্ভব বলে বোঝানো। আজ থেকে প্রায় তেইশ চব্বিশ বছর আগে লেখকের এমন এক সৃষ্টি পড়ে মুহুর্মুহু বিস্মিত হওয়া ছাড়া কিছু উপলব্ধ হয়নি। এক একটা ঘটনা, তার পরিপ্রেক্ষিতে যে জটিল বুদ্ধি খাটিয়ে শাস্তি দেওয়া এবং অমন মারমুখী প্রতিযোগিতায় জিশানের অদম্য মনোবলের সাথে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে একটা একটা করে লেভেল পাড় করা, প্রযুক্তির অসামান্য অবদানকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করে তোলা এবং বিজ্ঞানের আশীর্বাদে আশু ভবিষ্যতের যে যে দিক লেখক উল্লেখ করে গিয়েছেন তা পড়ার পর একই সাথে ভালোলাগা এবং ভয়, এই পরস্পর বিরোধী দুই অনুভূতি কাজ করে অদ্ভুত এক অনুভূতির জন্ম দিয়ে গেছে। কল্প বিজ্ঞানের এই ধরনের গল্প মন ও মস্তিস্ককে যেন আরও সজাগ ও চতুর করে তোলে। পাশাপাশি এই ধরণের বই স্নায়ু টানটান করার সাথে সারা শরীরে শিহরণ জাগায় যে শেষ পর্যন্ত ঠিক কী হল জানার জন্য। ঠিক তার পাশাপাশি শ্রীধর পাট্টার মতন চরিত্রের খারাপ ভালো দিক ফুটিয়ে তোলা।একজন বাপ্ মা মরা ছেলে কীভাবে দাপুটে অহংকারী নিষ্ঠুর নির্দয় পিশাচে পরিণত হয় এবং কীভাবে বুদ্ধি ও শক্তি খাটিয়ে নিউ সিটির সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠে তা খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন লেখক। লেখক সব শেষে এটাই বুঝিয়ে গেছেন যে মনের থেকে শক্তিধর আর কিছু হয়না, অধ্যবসায়, বিস্বাস আর নিজের প্রতি আস্থা মানুষকে কঠিন থেকে কঠিন মুহূর্তকে পাড় করিয়ে দিতে পারে। আর যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা করে এগিয়ে চলা এবং তার সাথে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে তুখোড় থেকে তুখোড় শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার কথা জানিয়ে যায়। এ বই এর প্রতিটি ছত্রে যে সাসপেন্স আর দম বন্ধ করা পরিস্থিতি লুকিয়ে তা অবশ্যই বলা বাহুল্য।
এই বই সত্যিই সম্পদ। আমার বিনীত অনুরোধ বইটি একবার পড়ে দেখার। যদিও বর্তমানে এই গল্পটি অডিও স্টোরি রূপে প্রকাশ পেয়েছে তবুও কিছু গল্প বইতেই বেশি উপভোগ্য বলে আমার মনে হয়। ২৩ ঘন্টা ৬০ মিনিট এই বছরের সেরা বই এখনও পর্যন্ত আমার কাছে।
No comments:
Post a Comment