Saturday, April 18, 2026

লকড রুম রহস্য সংকলন

📙বই :- লকড রুম রহস্য সংকলন 
✒️লেখক :- অমৃতেন্দু মুখোপাধ্যায় 
🔖প্রকাশনী :- অনুরাগ প্রকাশনী 
💰মুদ্রিত মূল্য :- ২৭৫ টাকা 

৫টি স্বল্প দৈর্ঘ্যর রহস্য সংকলন যেখানে প্রতিটা ঘটনা ঘটেছে চারদেওয়ালের মধ্যে। 

১. অদৃশ্য পদচিহ্ন :- অভয়, উৎপল ও ভিক্টর ঘুরতে যায় গুলমার্গে, সেখানেই তারা আড্ডার ফাঁকে শুনতে পায় গুলির আওয়াজ। যেখান থেকে সেই আওয়াজ এসেছে সেখানে গিয়ে দেখে মৃত ব্যক্তি ভেতর থেকে বন্ধ ঘরের মধ্যে খুন হয়েছেন। কিন্তু খুনি যদি জানালা দিয়ে বেয়ে খুন করে তাহলে পায়ের চিহ্ন থাকার কথা, সেসব কিছুই নেই।

২. গবলিন মিরর :- কিউরিও শপে একটা পুরোনো আয়না পছন্দ হয় ভিক্টরের কিন্তু দোকানি জানান যে বিক্রি হয়ে গেছে একজন ইতিহাসের অধ্যাপিকা উমাদেবীর কাছে যিনি পুরোনো এন্টিক জিনিস সংগ্রহ করেন। সেই মহিলা ভিক্টরকে নিমন্ত্রণ করেন তাঁর বাড়িতে এবং নম্বর দেন। আয়নাটি কেনার পরেরদিনই তিনি ফোন করে জানা যে সেই আয়নায় বিশ্রী এক ভয়ঙ্কর মুখের রাক্ষস বারবার দেখা দিচ্ছে। কী সেই রহস্য?

৩. গুপ্তঘাতক :- ভিক্টরের ভাই ঋক এর কার্বাঙ্কল অপারেশন এর জন্য ক্লিনিকে যায়। ড. রায় তার অপারেশনের আগে রাজ নামক এক ব্যক্তির অপারেশন করেন। ঋক এর অপারেশনের সময় ঘরে ঢুকতেই দেখেন ডাক্তার খুন হয়েছেন। এত কম সময়ে কে খুন করলো এবং জেনারেল সার্জন এর কাছে কেন নিউরোসার্জারিতে ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে?

৪. তুলিপটে রক্ত :-কলকাতার আর্ট মিউজিয়ামে "ক্যাট পাইরেট" পেইন্টিং আনা হয় কিন্তু দেখা যায় সেই ছবি থেকে ক্যাট পাইরেটের ক্যারেক্টার উধাও, সমাধানে নামে ভিক্টর।

৫. দরজায় মৃত্যুর ডাক :- রুমেলার স্বামী সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয় নন্দিনীর মৃত্যুর কেসে। যিনি মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানির বস এবং খুন হন বন্ধ ঘরে নাইলনের দড়ি পেঁচানো অবস্থায়। কে খুন করেছিল আসলে এবং শেষেই বা কী হয় জানতে গেলে পড়তে হবে এই বই।

যা ভালো লেগেছে :-
• খুব সংক্ষেপে এবং গুছিয়ে প্রতিটা রহস্য বিস্তারলাভ করেছে এবং সমাধানও বেশ সহজ সরল।
• লেখক বেশ কিছু গল্পে পাঠককে হিন্ট দিয়ে প্রশ্ন করেছেন তাদেরকেই উত্তর খোঁজার।
• সহজ ভাষা, একবারেই পুরো বই শেষ হবার মত।
• এই বই নিঃসন্দেহে ছোটদের দেওয়া যায় পড়তে।

যা খারাপ লাগলো :-
প্রচ্ছদ এবং অলংকরণ আরও ভালো হতে পারতো।

কলকাতা কাউন্সিলর কাঁটাচামচ

📙বই :- কলকাতা কাউন্সিলর কাঁটাচামচ 
✒️লেখিকা :- অনন্যা পোদ্দার 
🔖প্রকাশনী :- খসড়া প্রকাশনী 
🎨প্রচ্ছদ শিল্পী :- সুবিনয় দাস 
💰মুদ্রিত মূল্য :- ৪২৫ টাকা 
✨রেটিং :- ৪.২/৫

📚সংক্ষিপ্ত বিবরণ :- 
কলকাতা শহরে একের পর এক খুন। কাউন্সিলর পঙ্কজ রায় থেকে শুরু করে ডাক্তার দিব্যেন্দু সরকার-প্রভাবশালী সব ব্যক্তিরা খুন হচ্ছেন একে একে। খুন হওয়া এই ব্যক্তিদের তালিকায় যোগ হচ্ছে সনাতন শিকদারের মতো জেল থেকে ছাড়া পাওয়া আসামীও।
কাউন্সিলর পঙ্কজ রায় যার হাতে খুন হলেন, তিনি কাউন্সিলরের সম্ভাব্য পরিচিত। খুনের অস্ত্রটিও অভিনব একটি কাঁটাচামচ। তদন্ত করতে নেমে এ.সি.পি প্রজ্ঞা চৌধুরী খুঁজে পেলেন এই খুনের আগে হয়ে যাওয়া আরও দুটো খুনের যোগসূত্র। তাঁদের হত্যা করার পদ্ধতিও অভিনবত্বে ভরা। প্রথম জন হিমোটক্সিকে মারা যান, দ্বিতীয় জন ব্ল‍্যাকমেলড হয়ে নিজের মাথায় গুলি করেন। খুনের তদন্ত প্রক্রিয়া কলকাতা ছাড়িয়ে সুদূর লাচুং অবধি পৌঁছে যায়। সেখানে প্রজ্ঞা চৌধুরীর দুই অফিসার জানতে পারেন, খুনি রীতিমতো প্ল্যান করে এই তদন্তে প্রজ্ঞা চৌধুরীকে টেনে এনেছে।
প্রজ্ঞা চৌধুরী কি পারবেন এই রহস্যের সমাধান করতে? পারবেন কি কলকাতাকে নিরাপদে রাখতে?

🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া :-
টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এমন একটি বই পড়লাম যে বইয়ের প্রতি পদক্ষেপে রয়েছে দুর্দান্ত সব টুইস্ট এবং রহস্যের মোড়কে পরিপূর্ণ কিছু ঘটনা।
যে সিরিয়াল কিলিংকে লেখিকা ফুটিয়েছেন পড়তে গিয়ে বোঝা যায় তাদের জন্ম তারিখের সাথে খুনির প্যাটার্ন লুকিয়ে। এছাড়াও খুনি যে বেশ পড়াশোনা এবং হোমওয়ার্ক করে মাঠে নেমে একের পড় এক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে খুন করে গিয়েছে, শুধু খুনই নয় উল্টে পুলিশকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তাও নজরকাড়া।
বেশ অনেক দিন পড় কোনো থ্রিলার গল্পের প্রত্যাগনিস্ট হিসেবে মহিলা চরিত্রকে পেলাম যেখানে এসিপি প্রজ্ঞা চৌধুরীর বিচক্ষণ বুদ্ধি, রহস্যের জটিল প্যাঁচ থেকে এক এক করে জাল গোটানো এবং শুধু কলকাতাই নয় সুদূর লাচুং এও রহস্যের জাল বিস্তার করে খুনি যেভাবে এসিপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে তা পড়তে গিয়ে বেশ মাথা খাটাতে হয়। 
যদিও শেষটায় এসে জলবৎ তরলং হয়েছে সবটাই তবুও এই বই সাসপেন্স বেশ সুদক্ষভাবে ধরে রাখে।

বইয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট যা আমার চোখে পড়েছে --
• সবার প্রথমে প্রচ্ছদ, সুবিনয় দাসের কাজ পাঠককে মুগ্ধ করবে
• খুনের প্যাটার্ন ও বিস্তার
• প্রজ্ঞা চৌধুরীর স্থির মস্তিষ্কে কেস সলভ করা এবং পুরো ডিপার্টমেন্ট এর সদস্যরা যেভাবে এক বাক্যে প্রজ্ঞা চৌধুরীকে মান্যতা দেয় 
• বইটির পৃষ্ঠার গুণগত মান 

অবশ্যই পড়ুন, এই বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাতেই প্রকাশ পেল লেখিকার এই বই। আশা করি ভালো লাগবে।

দেবীরাক্ষস

📖বই- দেবীরাক্ষস
🖋️লেখক - সৌরভ চক্রবর্তী
🖨️প্রকাশক - দে'জ পাবলিশিং 
🎨প্রচ্ছদ - স্বর্ণাভ বেরা
💰মুদ্রিত মূল্য - ৩৯৯ টাকা 
✨রেটিং - ৩.৮/৫

🔖সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রতিটা গল্পের :- 
১. আয়ুষ্কাল – এক অসহনীয় নির্যাতনের সম্পর্কে থাকা মেহুলি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ডাঃ সেনের শরণাপন্ন হয়। চিকিৎসার সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত। কিন্তু সেই সম্পর্কই গল্পকে টেনে নিয়ে যায় এক অদ্ভুত, অলৌকিক অন্ধকারে।

২. চুল – ত্রিপুরার পাহাড়ি নির্জন এলাকায় এক শোকাহত মা তার মৃত সন্তান খুরুঙ এর প্রাণ ফিরিয়ে আনার আশায় এক ডাইনির সাহায্যপ্রার্থী হয় তার নিজের কাটা চুলের বিনিময়ে। কিন্তু এক অলৌকিক ঘটনার মূল্য চোকাতে হয় তাকে যা ভয়াবহভাবে ধরা দেয়। কী হারায় মা মিশালা? আর তার পরিণতি কী দাঁড়ায় পরিবারের জন্য?

৩. ঐজা বোর্ডের শেষ খেলা– একদল আতঙ্কিত মানুষ, এক অদৃশ্য শক্তির কবলে পড়ে, সাহায্যের জন্য ছুটে যায় রহস্যময়ী মার্ঘারিটার কাছে। ঐজা বোর্ডের মাধ্যমে সে চেষ্টা করে সেই অশান্ত আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কিন্তু ঘটনাটা কি সত্যিই এত সহজ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও জটিল রহস্য?

৪. দেবী রাক্ষস – আগরতলার সুশোভন, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক এক যুবক, বদলি হয়ে আসে ত্রিপুরার এক নিরিবিলি উপজাতি অঞ্চলে। সেখানে সে দেখতে পায় এক অদ্ভুত দেবীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ও আচার। ধীরে ধীরে সেই দেবীর উৎস, শক্তি ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তাকে ঘিরে ধরে। আর একসময় শোনা যায়, তাকেই নাকি বলি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

৫. কফিন বন্দি কাঠ – এক সিস্টার, যার সম্পর্কে শোনা যায় সে মৃতকে জীবিত করতে পারে। সদ্য সন্তানহারা এক দম্পতি শেষ আশায় তার কাছে আসে। কিন্তু মৃত্যু থেকে কাউকে ফিরিয়ে আনা কি এত সহজ? আর তার মূল্য কী?

৬. মাঝরাতের শেষ জাদু – এক জাদুকর তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি দেখানোর নেশায় সবকিছু বাজি রাখে। সেই চেষ্টাই তাকে নিয়ে যায় ধ্বংসের মুখে। তবুও সে প্রতিজ্ঞা করে, একদিন সে তার অসম্পূর্ণ জাদু সম্পূর্ণ করবেই—এবং শেষ পর্যন্ত সে তা করে।

৭. শেষ গল্প – উত্তরপ্রদেশে চাকরির সূত্রে গিয়ে এক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পরিচিত হয় এক অদ্ভুত মানুষের সঙ্গে এবং পায় এক রহস্যময় বই। সেই বই পড়া শুরু করার পর থেকেই তার জীবনে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে।

🌻পাঠ প্রতিক্রিয়া :- প্রতিটা গল্পের শুরু পাঠক মনে আগ্রহ তৈরী করে। গল্পের মাঝে এসে নতুন কিছু চমক নিয়ে আসে অজানা ভয় এবং শেষটায় লেখক পাঠককে ভাবতে বাধ্য করেছেন নিজস্ব কাল্পনিক চিন্তাভাবনায়।

📌যা যা ভালো লেগেছে :-
• স্বল্প দৈর্ঘ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটা গল্প ভয়ের রেশ রাখে
• বিশেষ নজর কেড়েছে প্রচ্ছদ ও অসাধারণ অলংকরণ 
• লেখকের চিন্তাশৈলী মিশেছে কল্পনা ও ভৌতিক রহস্যে, বইয়ের ভূমিকা অংশেই যা প্রকট হয়েছে 
• "আয়ুষ্কাল", "ঐজা বোর্ডের শেষ খেলা" এবং "দেবীরাক্ষস" যথেষ্ট ভয় এবং ভাবনার জন্ম দেয় সাথে ওপেন এন্ডিং থাকায় ভাবতে সাহায্য করে গল্প শেষের পড়েও

🚫যা যা ভালো লাগেনি :-
• উপরের তিনটি গল্প ছাড়া বাকি গল্প তুলনামূলক কম ভয়ের জন্ম দিয়েছে।
• "কফিন বন্দি কাঠ" গল্পে বিদেশি হরর সিনেমার ছোঁয়া পাওয়া যায় 
• কিছু কিছু জায়গায় অনুমানের ভিত্তিতে আগে থেকেই বোঝা গেছে কী হতে চলেছে 

তবে এই বই এর প্রায় প্রতিটা গল্প লেখকের ২০২৮-২১ এর সময়ে লেখা তাই শুরুর দিকের লেখনী সত্ত্বেও আপনাকে সার্বিকভাবে ভয়ের শিহরণ জাগাবে আর বৃষ্টির রাতে জমবে এই বই। তাই "দেবীরাক্ষস" তুলে নিন হাতে এবং ডুবে যান শুভ-অশুভ শক্তির গ্রাসে আর আস্বাদন করুন প্রতিটা গল্প নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আর ভয় নিয়ে। আর হ্যাঁ বিজ্ঞান আর যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন না, তাহলে উত্তর পাবেন না। আর সব শেষে লেখক জানিয়েই রেখেছেন দুর্বল চিত্তের পাঠকের জন্য এই বই নয়।

লকড রুম রহস্য সংকলন

📙বই :- লকড রুম রহস্য সংকলন  ✒️লেখক :- অমৃতেন্দু মুখোপাধ্যায়  🔖প্রকাশনী :- অনুরাগ প্রকাশনী  💰মুদ্রিত মূল্য :- ২৭৫ টাকা  ৫টি স্...