✍🏻লেখক :- সায়ন্তনী পূততুন্ড
🔖প্রকাশক :- আনন্দ
💸মুদ্রিত মূল্য :- ২০০টাকা
📄পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ১৯৮
📌রেটিং :- ৫/৫
গল্পের বিষয়বস্তু :- আগামীদিনের কলকাতা শহরের পরিণতি নিজের হাতে বদলে ফেলেন বিজ্ঞানী রবিনসন। যিনি ভবিষ্যত দেখার জন্য আবিষ্কার করেছেন "ফিউচারোস্কোপ" যন্ত্র যেখানে মানুষের ডিএনএ এই সাহায্যে জানা সম্ভব তার ভবিষ্যত। এমন আবিষ্কারের পর রবিনসন হয়ে ওঠেন আত্মপ্রত্যয়ীএবং হাইটেক কলকাতা শহরের অধিশ্বর হবার স্বপ্ন হয়ে ওঠে তাঁর ধ্যান জ্ঞান। আর তিনি সফলও হন। হয়ে ওঠেন ২০৪৬ সালের সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্ব শক্তিমান অধিষ্ঠাতা। কিন্তু তাঁরই আবিষ্কৃত যন্ত্রে নিজের ভবিষ্যত দেখতে গিয়ে জানতে পারেন যে তিনিই খুন হবেন কারোর হাতে। কিন্তু সে কে? যিনি মানুষের ভবিষ্যৎ গণনা করে বদলে দিতে পারেন তিনি কি নিজের মৃত্যু আটকাতে পারবেন নাকি সত্যিই মারা যাবেন কোনো নিকটতম মানুষের হাতে। সেটি জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :- এমন একটি সাইন্স ফিকশন বই পড়ার পর নিজেকে বাস্তব দুনিয়ায় স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময়ে লাগে। এই বইতে একের পর এক ঘটনা যা বর্তমান সমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে মেলে তা চোখের সামনে তুলে ধরেছেন লেখিকা। তিনি যেমন উন্নত কলকাতা শহরের বুকে রোবটবাহিনীর নিরাপত্তা, কিংবা দূষণ মুক্ত শহর দেখিয়েছেন ঠিক তারই পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেছেন দরিদ্র নিপিড়িত মানুষের দুরাবস্থা। যেখানে কলকাতা শহরের উন্নতিসাধন ঘটলেও গরিব মানুষদের ভবিষ্যতের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বরং তারাই তাদের নিজ ভূমিতে শোষিত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। ক্ষমতার অপব্যবহারে বিজ্ঞানী রবিনসন যেমন হিতাহিত জ্ঞান ভুলে একের পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন ঠিক অপরদিকে নিরস্ত্র দরিদ্র মানুষেরা একজোট হয়ে বিজ্ঞানের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছে অভুক্ত পেটে। এই বইতে এমন কিছু ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যা চোখে জল আনতে বাধ্য। এক কথায় বিজ্ঞানের প্রসারতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষ থেকে অমানবিক পিশাচে পরিণত হওয়া বিজ্ঞানীর ভবিষ্যত এবং নিপিড়িত মানুষের মনের জোরে শেষ অবধি লড়াই করে যাওয়া। এই বইতে সব বর্তমান। তবে কিভাবে বিজ্ঞানী রবিনসন একদিনের জন্য ঈশ্বর হয়ে উঠবেন সেই ঘটনার বর্ণনাও বেশ নজরকাড়া।
সব মিলিয়ে বহুদিন পর এতো সুন্দর একটা বই পড়া সার্থক।
No comments:
Post a Comment